মার্কিন শুল্কের প্রভাবে বৈশ্বিক চালের বাজারে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে ৯ এপ্রিল থেকে থাইল্যান্ডের চাল আমদানিতে ৩৬ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৯ এপ্রিল থেকে থাইল্যান্ডের চাল আমদানিতে ৩৬ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন শুল্কনীতির আওতায় ভারতের জন্য ২৬ ও ভিয়েতনামের জন্য ৪৬ এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ২৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি করে। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বৈশ্বিক চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডট কম।

যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে বড় চাল আমদানিকারক দেশ। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে থাইল্যান্ড দেশটির প্রধান চাল সরবরাহকারী। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ট্রাম্পের শুল্কের কারণে দেশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার্সের ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহ করেছিল থাইল্যান্ড। এর পরেই আছে ভারত, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের অবস্থান। চারটি দেশের চাল আমদানির ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে গড় অতিরিক্ত শুল্ক এখন ৩৩ শতাংশের বেশি।

মার্কিন চাল শিল্পসংশ্লিষ্ট এক সূত্রের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমদানি করা চালের দাম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আবার অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বেশি। তবে শুল্কের প্রভাবে চালের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া চালের ৬০ শতাংশের বেশি জেসমিন ও বাসমতীসহ অন্যান্য সুগন্ধি চাল। বর্তমানে বিদেশী চাল আমদানি দেশটির মোট চাল ব্যবহারের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি। পুয়ের্তো রিকোয় (যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বশাসিত ভূখণ্ড) ছোট ও মাঝারি দানার চাল সরবরাহ করে চীন। এ দেশের চাল আমদানিতেও ৫৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ইউএসএ রাইস ফেডারেশন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রায় ৮০ শতাংশ চাল উৎপাদন হয়। দেশটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ। বেশির ভাগ মার্কিন চাল উৎপাদন হয় দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল, উপসাগরীয় ও পশ্চিম উপকূলে।

গত বছর মার্কিন চালের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার ছিল মেক্সিকো। এরপর ছিল মধ্য আমেরিকা, হাইতি, জাপান ও কানাডার অবস্থান। ২ এপ্রিল ঘোষিত শুল্কনীতিতে মেক্সিকো ও কানাডাকে শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এক চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা এ তিন দেশের মধ্যে চাল বাণিজ্য শুল্কমুক্ত। ফলে দেশগুলোর পাল্টা শুল্ক আরোপের আশঙ্কা কম।

তবে উত্তর আমেরিকার দেশ ও হাইতির ওপর ১০ শতাংশ ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। জাপানের ক্ষেত্রে তা ২৪ শতাংশ। তাই এসব দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে। যদিও খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, খাদ্যনিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর আশঙ্কা কম।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী রেকর্ড চাল উৎপাদন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ‘গ্রেইন: ওয়ার্ল্ড মার্কেটস অ্যান্ড ট্রেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে চালের দাম ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

আরও